শিরোনাম :

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অন্তঃসত্ত্বা নারী করোনায় আক্রান্ত।

প্রকাশ: ২০২০-০৪-২১ ১৫:৫৩:১৮ || আপডেট: ২০২০-০৫-০২ ০৭:০৪:৫৬

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ও কিডনি ডায়ালাইসিস ইউনিটের পর গাইনি বিভাগের একটি অপারেশন থিয়েটার বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সন্তান জন্ম দিতে আসা এক অন্তঃসত্ত্বা নারী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নেয়। এই ইউনিটের প্রায় অর্ধেক চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে বলা হয়েছে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পূর্ব দিকের পুরাতন ভবনের নিচ তলায় গাইনি বিভাগ। গাইনি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এই ওয়ার্ডে প্রতিদিন অর্ধশতাধিক নারী সেবা নিতে ভর্তি হন। বর্তমানে ওয়ার্ডটির চিকিৎসা কার্যক্রম সীমিত করা হয়েছে এবং এই ইউনিটের ৭ জন চিকিৎসক, ৩ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক, ৬ জন নার্সসহ মোট ১৬ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গাইনি বিভাগের একজন চিকিৎসক প্রথম আলোকে বলেন, গত বৃহস্পতিবার শেরপুর থেকে অন্তঃসত্ত্বা নারী এখানে ভর্তি হন। পরের দিন অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। কিন্তু তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত শনিবার ভোরে তাঁকে আইসিইউতে রাখা হয়। পরের দিন তাঁর নমুনা হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়। গতকালই জানা যায়, ওই নারী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত।

এই খবরে গাইনি বিভাগের চিকিৎসক ও নার্সদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গতকাল সন্ধ্যায় সবাইকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার পরামর্শ দেয় এবং অপারেশন থিয়েটার বন্ধ ঘোষণা করে। তবে গাইনি বিভাগের অন্য একটি অপারেশন থিয়েটার চালু রাখা হয়েছে। ওই নারীকে এসকে হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানান ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) ময়মনসিংহ শাখার সভাপতি মতিউর রহমান ভূঁইয়া বলেন, চিকিৎসক ও নার্সরা যথাসাধ্য চেষ্টা করে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু কোনো কোনো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী তথ্য গোপন করে চিকিৎসা নিতে গিয়ে সবাইকেই ঝুঁকির মধ্যে ফেলেন। এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আরও সতর্ক হতে হবে এবং চিকিৎসাকাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

গত সপ্তাহে মেডিসিন ওয়ার্ডে একজন এবং ডায়ালাইসিস ওয়ার্ডে দুজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী তথ্য গোপন করে চিকিৎসা নেন। পরে বিষয়টি প্রকাশিত হলে ওই দুটি ওয়ার্ডে চিকিৎসা কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। চিকিৎসকদের কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।