শিরোনাম :

করোনাভাইরাসের ফলে ভেষজ ঔষুধে বাড়তে লোকসান, হতাশায় কৃষকেরা।

প্রকাশ: ২০২০-০৪-২০ ১৬:২২:০৯ || আপডেট: ২০২০-০৫-০২ ০৭:১৩:৩০

দেশের একমাত্র ভেষজ ঔষধি গ্রাম নাটোর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর খোলাবাড়িয়ার সাড়ে চার হাজার চাষি, ব্যবসায়ী, হকার ও শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। গত ২০ দিনে তাঁদের লোকসান হয়েছে প্রায় তিন কোটি টাকা। পচনশীল পণ্য হওয়ায় প্রতিদিন ১৫ লাখ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে তাঁদের।

নাটোর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামটিতে সারা বছর ১ হাজার ৫০ বিঘা জমিতে ঘৃতকুমারী (অ্যালোভেরা), শিমুল মূল, অশ্বগন্ধাসহ ২২ প্রজাতির ভেষজ ঔষধি গাছের চাষ হয়। ভোর থেকে চাষিরা জমি থেকে এসব গাছগাছড়া সংগ্রহ করে পাইকারি আড়তের মাধ্যমে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যান। গ্রামেও গড়ে উঠেছে ভেষজ হাটবাজার। করোনার প্রভাবে এসব হাটবাজার বন্ধ হয়ে গেছে। ঘৃতকুমারীসহ অন্যান্য গাছগাছড়ার পাতা ও মূল পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

আজ সোমবার সকালে ঔষধি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, লক্ষ্মীপুর ও আমীরগঞ্জের ভেষজবাজারের সব দোকানপাট বন্ধ। পাইকারি আড়তের সামনে ঘৃতকুমারীর পাতা স্তূপ করে রাখা। কিছু কিছু পাতায় পচন ধরেছে। উৎপাদনের ভরা মৌসুম হওয়ায় এ সময় জমিতে শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততা থাকার কথা থাকলেও তা চোখে পড়েনি।

লক্ষ্মীপুর বাজারের ভেষজ ব্যবসায়ী শাহ জালাল জানান, এখানকার সাড়ে চার হাজার মানুষ সরাসরি ভেষজ চাষ ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাঁদের জীবিকার প্রধান উৎসও ভেষজ চাষ। সরকার পরিবহন বন্ধ ঘোষণার পরের দিন থেকে সব ভেষজবাজার বন্ধ হয়ে যায়। ফলে উৎপাদন হলেও বেচাবিক্রি হচ্ছে না। সবাই বেকার হয়ে পড়েছেন।

ভেষজ গ্রামের চাষি সমবায় সমিতির সভাপতি জয়নাল হোসেন জানান, তাঁরা প্রতি কেজি ঘৃতকুমারী পাইকারি বিক্রি করেন ২০ টাকায়। প্রতিদিন এই গ্রামে ৭৫ হাজার কেজি ঘৃতকুমারী বেচাকেনা হয়। এ হিসাবে তাঁদের প্রতিদিন লোকসান গুনতে হচ্ছে ১৫ লাখ টাকা। গত ২০ দিনে তাঁদের লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় তিন কোটি টাকা। এ ছাড়া অন্যান্য গাছগাছড়া অবিক্রীত অবস্থায় পচে যাওয়ার ফলে আরও কয়েক লাখ টাকা ক্ষতির আশঙ্কা আছে।

গ্রামের কৃষকদের চলমান পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় আনা হবে কি না, জানতে চাইলে সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেহেদুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে ভাবতে হবে। আপাতত ক্ষতির পরিমাণ কীভাবে কমানো যায়, সে ব্যাপারে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

ট্যাগ :